প্রকাশিত: ২৬ মে, ২০২৪, ০৫:১১ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি দেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এরই মধ্যে সৈকতের নগরী কক্সবাজার শহর ও এর আশেপাশের উপজেলা সমূহে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্র উপকূলে বইছে দমকা হাওয়া।
কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নং বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
শনিবার (২৫ মে) রাত ৮টা থেকে কক্সবাজার জেলায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়।
দূর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এবং উপজেলাগুলোতে শনিবার সন্ধ্যা থেকে কন্ট্রোল খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় রেমাল-এ পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কক্সবাজার জেলায় ও সৈকতের নগরীতে বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে দমকা হাওয়া রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় ৬৩৮টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ৪৮৬ মে.টন চাল, ২ লাখ ৭৫ হাজার নগদ টাকা, ঢেউটিন ২৩ বান্ডিলসহ প্রায় ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. শাহীন ইমরান।
শনিবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ জাফর আলম সিএসপি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা এতথ্য জানান তিনি। এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সভাপতি জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির তথ্য শোনার পর বলেন, সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি হোটেল মোটেল জোনও যেন প্রয়োজন মোতাবেক দুর্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়ায় সেই অনুরোধ করেন। সড়ক ও জনপথ,ফায়ার সার্ভিসকে জরুরি উদ্ধারের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড় ধস এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে তাদের সরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শুকনো খাবার এবং খিচুড়ির ব্যবস্থা করতে পৌরসভাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, হামুন, মোখাসহ অনেক ঘূর্ণিঝড় একসঙ্গে মোকাবেলা করেছি। এবারও আশা করছি সবাই একসাথে কাজ করবো। প্রান্তিক মানুষদের সচেতনতা ও আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে এসে নিরাপদে রাখার জন্য সকলকে নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়াও রাতে রিচার্জেবল লাইট ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখতে বলেন।
৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবক পুরো কক্সবাজার জেলা উপজেলায় কাজ করছে। ৪ নম্বর সিগন্যাল পাওয়ার পরপরই প্রচারণায় বেরিয়ে পড়বে স্বেচ্ছাসেবক দল। এছাড়া রেড ক্রিসেন্টের ৮৮০ জন ভলান্টিয়ার প্রস্তুত রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ মোকাবিলায় ৬৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ৮ হাজার ৬ শ’ স্বেচ্ছাসেবক এবং ২২ শ সিপিপি প্রস্তুত রাখা হয়েছে জরুরি কাজে অংশগ্রহণের জন্য।
দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক বলেন, ৪৮৬ মে.টন চাল, ২ লাখ ৭৫ হাজার নগদ টাকা, ঢেউটিন ২৩ বান্ডিল, টিনের সাথে গৃহ নির্মাণ মঞ্জুরির অর্থ ৬৯ হাজার মজুত রয়েছে। তবে কোন শুকনা খাবার মজুত নাই।
মন্তব্য করুন